সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া বিল তৈরি এবং আদালতের সমন জালিয়াতির অভিযোগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের একজনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত, অন্যজনকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-৩ শাখা থেকে সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর স্বাক্ষরে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করে এ আদেশ দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পঞ্চগড় জেলা কারাগারের সাবেক জেলার মো. আব্দুল ফাত্তাহকে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির দায়ে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহাকে জালিয়াতি ও আর্থিক অনিয়মের দায়ে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পঞ্চগড় জেলা কারাগারে জেলার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ২০২৩ সালের ১৭ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খোরাকি রেশন খাতে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মে জড়ান আব্দুল ফাত্তাহ।
কারা অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারাগারে বন্দির সংখ্যা কম থাকা সত্ত্বেও অসৎ উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত খোরাকি রেশনের চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া তৎকালীন জেল সুপারকে পাশ কাটিয়ে কারা সহকারীর পরিবর্তে কারারক্ষী মো. জাফর মাহামুদ শাকিলের মাধ্যমে ভুয়া বিল তৈরি করে জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠানো হতো।
তদন্তে ‘বাবা মায়ের দোয়া’, ‘নূর স্টোর’ ও ‘শুভ স-মিল’ নামে তিনটি ভুয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে ৫৭টি ভুয়া বিল পাসের মাধ্যমে ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে সোনালী ব্যাংকের পঞ্চগড় শাখায় ৯টি চালানের মাধ্যমে ওই টাকা জমা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এর মধ্যে আব্দুল ফাত্তাহ নিজে ৪০ লাখ টাকা জমা দেন।
অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী অসদাচরণ ও দুর্নীতিপরায়ণতার দায়ে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি এর আগে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় ছিলেন।
অন্যদিকে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গেন্ডারিয়া কেন্দ্রীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগারের প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহার বিরুদ্ধে আদালতের সমন ও সাক্ষ্য প্রদানের ভুয়া সনদ তৈরি করে সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বর্তমানে অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দুলাল কৃষ্ণ সাহা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন আদালতের সমন ও সাক্ষ্য প্রদানের ভুয়া সনদ তৈরি করে আদালতে সাক্ষ্য না দিয়েই সরকারি অর্থ উত্তোলন করেছেন। এ ছাড়া ভ্রমণসংক্রান্ত বিল ও বিবরণীতে অনুমোদনের স্থানে ভিন্ন স্বাক্ষর থাকলেও সেখানে প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষকের সিল ব্যবহার করা হয়েছিল।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, ২০০০ সালে ষষ্ঠ গ্রেডে যোগদানের পর থেকে ২৩ বছরে বিমান ভ্রমণের প্রাধিকার না থাকা সত্ত্বেও তিনি শতাধিকবার বিমান ভ্রমণের ভুয়া বিল দাখিল করেন। এসব বিলের মাধ্যমে অনিয়ম করে তিনি ৩ লাখ ১৫ হাজার ৭৫৭ টাকা উত্তোলন করেন। বিভাগীয় মামলা ও তদন্ত শেষে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী অসদাচরণের দায়ে তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।